![]() |
| 'সংস্কৃত সাহিত্যে মেঘদূত' কবি কালিদাস |
ভূমিকা
মেঘদূত বা মেঘসন্দেস কালিদাস রচিত একটি কাব্য .প্রাচীন টিকাকারদের মতে এটি কেলিকাব্য ক্রীয়াকাব্য খণ্ডকাব্য বা মহাকাব্য।আধুনিক গবেষকগণ এটিকে “বর্ষাকাব্য” বা গীতিকাব্য নামে অভিহিত করেন।মন্দকান্তা ছন্দে রচিত এই কাব্য কালিদাস এর সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় এবং সম্পূর্ণ মৌলিক রচনা।আবার শুদ্ধ বিরোহ কে অবলম্বন করে সংস্কৃত সাহিত্যের প্রথম ও পূর্ণাঙ্গ কাব্য মেঘদূত।
রামগিরি পর্বতে নির্বাসিত এক অভিশপ্ত যক্ষ এর প্রিয়াবিরহ এই কাব্যের মূল উপজীব্য।কাব্য টি দুটি অংশে বিভক্ত যথা পূর্ব মেঘ ও উওরমেঘ। কাব্যটির শ্লোক সংখ্যা 118 টি। এর মধ্যে যক্ষ পিয়ার উপরে লেখা শোকের সংখ্যা 17 টি উওরমেঘে 85থেকে 101 টি। এর মধ্যে 16 টি শোকে যক্ষপ্রিয়ার বিরহ কিষষ্ঠ রূপের বর্ণনা। বাকি অংশে রয়েছে যক্ষপ্রিয়ার স্বভাবী রূপের বর্ণনা।
রামগিরি পর্বতে নির্বাসিত এক অভিশপ্ত যক্ষ এর প্রিয়াবিরহ এই কাব্যের মূল উপজীব্য।কাব্য টি দুটি অংশে বিভক্ত যথা পূর্ব মেঘ ও উওরমেঘ। কাব্যটির শ্লোক সংখ্যা 118 টি। এর মধ্যে যক্ষ পিয়ার উপরে লেখা শোকের সংখ্যা 17 টি উওরমেঘে 85থেকে 101 টি। এর মধ্যে 16 টি শোকে যক্ষপ্রিয়ার বিরহ কিষষ্ঠ রূপের বর্ণনা। বাকি অংশে রয়েছে যক্ষপ্রিয়ার স্বভাবী রূপের বর্ণনা।
"বিষয়বস্তু"
কালিদাস এর কবি প্রতিভার চূড়ান্ত নিদর্শন মেঘদূত। রামগিরি থেকে হিমালয় পর্যন্ত প্রাচীন ভারতের এক খণ্ড কিন্তু অনন্য চিত্রে সমুজ্জ্বল এই ক্ষুদ্র গীতিকাব্য। কেতকিবেষ্টিত উপবন, পাখিদের নীর ,গ্রামচৈত্য, উজ্জয়নী অবন্তী, বিদিশা, প্রভৃতি নগর, বিন্ধ ,কৈলাশ, দেবগিরি, প্রভৃতি পর্বত।
![]() |
| কর্তব্যে অবহেলাকারী যক্ষ/ তোমাকে এক বছরের জন্য রামগিরি পর্বতে নির্বাচন দওয়া হল। |
![]() |
| আষাঢ়ের প্রথম দিবসের মেঘকে যক্ষ কর্তৃক স্বাগত। |
![]() |
| রামগিরিতে যক্ষের বিরহ / অকালপুরীতে প্রিয়ার বিরহ। |
![]() |
| অকালপুরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। |
“রেবাং দ্রক্ষ্যস্যু্পলবিষমে বিন্ধ্যপাদে বিশীর্ণাং”
“ভক্তিচ্ছেদৈরিব বিরচিতাং ভূতিমঙ্গে গজস্য”
“ভক্তিচ্ছেদৈরিব বিরচিতাং ভূতিমঙ্গে গজস্য”
অর্থাৎ রেবা, শিপ্রা, বেত্রবতী ইত্যাদি নদী, সুপ্ত নগরসৌধ পরিতক্তা রাজপথ হম্মবর্তমান থেকে ভেসে আসা পুরোবধূদের কেশ সংস্কার ধূপের ঘ্রাণ সব মিলিয়ে অতীত,অবলুপ্ত ভারতের এক সজীব চিত্র মেঘদূত কাব্যে চির বৃদ্ধিত। এই কাব্যে ধনিত হয়েছে সর্বকালের মানুষের অতল স্পর্শ বিরহ, এক অর্থে প্রতিটি মানুষই নির্বাসিত, বিরহ যক্ষ। মানুষেরা এক একটি বিচ্ছিন্নদীপ এর মতো পরস্পরের মধ্যে অপরিমেয় অশ্রু লবণাক্ত সমুদ্র। "মেঘদূত" সরবৈচিত্র,ধ্বনি গাম্ভীর্য অতুলনীয় চিত্র কল্পের সমাবেশ এক অনন্য বর্ষা কাব্য। মন্দকান্ত তা ছন্দে রচিত এর প্রত্যেকটি শ্লোক আপনাকে আপনি সমাপ্ত। প্রতিটি শ্লোক স্বতন্ত্র হীরক খণ্ডের মতো উজ্জ্বল এবং সমস্ত কাব্যটি হীরক খণ্ডের মতো সুন্দর।
মেঘদূত এ গল্প নেই যেটুকু আছে তা অতি সূক্ষ এবং প্রচ্ছন্ন। প্রভু শাপে নির্বাসিত এক ঝক্ষ বর্ষার মেঘকে তার বিরোহিনী প্রেয়সীর কাছে বাতা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আলকাপুরী তে যেতে কাতর অনুরোধ অনুনয় জানিয়েছে। কাব্যের প্রথমার্ধে ঝক্ষ মেঘকে আলকাপুরী যাওয়ার পথ নির্দেশ করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে সে অলকার বণনা দিয়েছে । তার সৌধবলী যক্ষ বধূর সব কিছু কথা বলে পরিশেষে তার বার্তা জানিয়েছে। মঙ্গলাচারণ সহ কাব্য শেষ হয়েছে।
মেঘদূত এ গল্প নেই যেটুকু আছে তা অতি সূক্ষ এবং প্রচ্ছন্ন। প্রভু শাপে নির্বাসিত এক ঝক্ষ বর্ষার মেঘকে তার বিরোহিনী প্রেয়সীর কাছে বাতা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আলকাপুরী তে যেতে কাতর অনুরোধ অনুনয় জানিয়েছে। কাব্যের প্রথমার্ধে ঝক্ষ মেঘকে আলকাপুরী যাওয়ার পথ নির্দেশ করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে সে অলকার বণনা দিয়েছে । তার সৌধবলী যক্ষ বধূর সব কিছু কথা বলে পরিশেষে তার বার্তা জানিয়েছে। মঙ্গলাচারণ সহ কাব্য শেষ হয়েছে।
“মূল্যায়ন”
‘মেঘদূত' সম্বন্ধে ভারতীয় ও বৈদেশিক মণীষীদের সশ্রদ্ব উল্লেখ সংস্কৃত সাহিত্যের যে কোন পাঠাথ্যর নজরে পড়বে। প্রাচীন সংস্তত আলংকারিক তথা আধুনিক ভারতীয় কবি এবং সাহিত্য বগ মেঘদূত এর অকুন্ঠ প্রশংসায় মুখর। একটি বিশেষ কাব্য ‘মেঘদূত’ এর এই সমাদর ই জন্ম দিয়েছে বিশাল ‘দূতকাব্য’ সম্ভারের। শুধু তাই নয় -মেঘদূত এর উপর রচিত অসংখ্য টীকা গ্ৰন্থও এই কাব্যের জনপ্রিয়তার পরিচয় বহন করে। পন্ডিত ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যা সাগরের মতে-“সংস্কৃত ভাষায় ষত খণ্ডকাব্য আছে, মেঘদূত সর্বাংশে সর্বোৎকৃষ্ট। ..ঐ সমস্ত বর্ণনে এমন অসাধারণ কবিত্বশক্তি অনন্যসামান্য সহৃদয়তা প্রদর্শিত হইয়াছে যে যদি কালিদাস মেঘদূত ব্যতিরিক্ত অন্য কোন কাব্য রচনা না করিতেন, তথাপি তাঁহাকে অদ্বিতীয় কবি বলিয়া অঙ্গীকার করিতে হইত।” এইসব কথায় অত্যুত্তি আছে বলে মনে হয় না। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ‘মেঘদূত’ সন্মন্ধে যে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন তাও অকারণ নয়। “মেঘদূত ছাড়া নববর্ষার কোনো সাহিত্য কোথাও নাই। ইহাতে বর্ষার সমস্ত অন্তর্বেদনা নিত্যকালের ভাষায় লিখিত হইয়া গেছে।’
‘মেঘদূত’ সংস্কৃত গীতিকাব্য হিসাবেই পরিচিত এবং এই বর্গে গণ্য করার যথেষ্ট কারণও আছে। ‘খন্ড কাব্য’,‘সংঘাত'এমনকি মহাকাব্য নাম বিধান করলেও 'মেঘদূতের’ গীতিময়তা তাকে গীতিকাব্য রূপেই চিহ্নিত করে।







No comments:
Post a Comment